সব একসঙ্গে মনে পড়লো। ভূতেরা নাকি সন্ধে রাতে মানুষের আলাপ শুনে রেখে ভোর রাতে ডেকে নিয়ে চলে যায়। অন্ধকারে। ঐরকম ডেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক সময় ঘাড় মটকে দেয়।...
আম্মাকে জিজ্ঞেস করলে আম্মা বললেন, না বাপু তোমার ঐ আজগুবি কথা শোনবার মতো সময় নেই আমার। তোমার চাচাকে বলো। ছোট্ট চাচাকে জিজ্ঞেস করলো তো ছোট্ট চাচা এক কথায় বলে দিলো, আমাদের বাগানে ভূত থাকবে না তো আর কোথায় থাকবে! ইয়ার্কি নাকি! কতো পুরোনো আর কতো বড় আমাদের বাগান।
ছোটু চাচার কথার ঢং দেখে বিনকুর রাগ হয়। তার যে কী দুশ্চিন্তা তাতো আর কেউ বুঝতে চাইবে না। দিনের বেলা পড়ার টেবিলে, ইস্কুলের মাঠে, পার্কে খেলতে যাবার সময়- সর্বক্ষণ ঐ ভূতের চিন্তাটা থেকে থেকে ওর মনের মধ্যে হানা দিয়ে ফিরতে লাগলো।
উদ্দীপকের বিনকু 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বহুদিন ধরে আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারবশত মানুষ ভূত-প্রেত ও আত্মায় বিশ্বাস করে। ভূত বলে কিছু আছে আধুনিক বিজ্ঞান-মনস্ক মানুষ তা বিশ্বাস করে না। তবে বিচার-বুদ্ধির অভাবে অনেকেই তা বিশ্বাস করে।
উদ্দীপকে বিনকুর ভূতে বিশ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিনকু ভূত সম্পর্কে বিভিন্ন গল্প-কাহিনি শুনে ভূতে বিশ্বাস শুরু করে। বিষয়টি সম্পর্কে সে তার মায়ের কাছে জানতে চায়। ভূতেরা মানুষের আলাপ শুনে মানুষকে রাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঘাড় মটকে দেওয়ার বিষয়কে আজগুবি কথা বলে মা বিনকুকে গুরুত্ব দেয় না। বিনকুর ছোট চাচাও ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে রহস্য করে কথা বলে। তাই দিনের বেলা পড়ার টেবিলে, স্কুলের মাঠে, পার্কে খেলার সময় বিনকু ভূতের চিন্তায় অস্থির থাকে। তার এই অস্থিরতা 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। নগেনও ভূতে বিশ্বাস করে। এ গল্পে নগেন মামার তৈলচিত্রের ফ্রেমে হাত দিয়ে বৈদ্যুতিক শককে ভূতের কাজ বলে মনে করে। সেও এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় অস্থির থাকে। তাই বলা যায় যে, ভুতে বিশ্বাসের দিক থেকে উদ্দীপকের বিনকু আলোচ্য গল্পের নগেনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?